জুয়েল, একজন ছোটখাটো ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী শাহানা ও তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ছোট ঘরে বসবাস করতেন। ১৫ দিন আগে শাহানা পায়ে আঘাত পান এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ১০ দিন ধরে চিকিৎসা চলতে থাকে। চিকিৎসা ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকে। জুয়েলকে ১ কোটি টাকার ঋণ নিতে হয়, যার সুদ অত্যন্ত বেশি। ফলে পরিবারের আর্থিক অবস্থা সংকটময় হয়ে ওঠে।
জুয়েলের ছোটখাটো দোকান সাম্প্রতিক সময়ে বিক্রয় কমে যাওয়ায় আয় কমে যায়। ঋণ নেওয়ার ফলে তার সঞ্চয় ফুরিয়ে যায় এবং পরিবারকে জমি বিক্রি করতে হয়। জমি বিক্রির টাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়, কিন্তু সুদের হার এত বেশি যে, ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি পরিবারকে মানসিক ও আর্থিক দু'দিক থেকেই কষ্টে ফেলেছে।
জুয়েল বলেন, “সুদের হার এত বেশি যে, আমি আর সামলাতে পারি না। আমি শুধু আমার পরিবারের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে চাই।” শাহানা বলেন, “অস্ত্রোপচারের পর আমি এখনও ব্যথায় আছি, কিন্তু চিকিৎসা চলমান থাকলে আমি সুস্থ হব।” ডাক্তার বলেন, “শাহানার অবস্থা স্থিতিশীল, কিন্তু চিকিৎসা চলমান থাকলে তিনি দ্রুত সুস্থ হবেন।” সমাজে উদ্বেগের ঢেউ বইছে এবং প্রতিবেশীরা জুয়েলকে আর্থিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পরিকল্পনা চালু করেছে, যার অধীনে কম আয়ের পরিবারকে চিকিৎসা ব্যয়ের অংশ মওকুফ করা হবে। NGO গুলোও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য সাশ্রয়ী ঋণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যাতে এমন পরিবার আর্থিক সংকটে না পড়ে। কর্তৃপক্ষকে সুদের হার নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিশেষ তহবিল গড়ে তুলতে হবে।