cox24newsbd.com
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
শখের বশে আনারকলি চাষে সফল মেহেরপুরের চাষি মিঠু
সারাদেশ

শখের বশে আনারকলি চাষে সফল মেহেরপুরের চাষি মিঠু

মেহেরপুরের এক ছোট গ্রামাঞ্চলে শখের বশে আনারকলি চাষে সাফল্য অর্জন করেছেন স্থানীয় চাষি মিঠু। তিনি প্রায় এক বছর আগে নিজস্ব জমিতে আনারকলি রোপণ শুরু করেন এবং আজ পর
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

মেহেরপুরের এক ছোট গ্রামাঞ্চলে শখের বশে আনারকলি চাষে সাফল্য অর্জন করেছেন স্থানীয় চাষি মিঠু। তিনি প্রায় এক বছর আগে নিজস্ব জমিতে আনারকলি রোপণ শুরু করেন এবং আজ পর্যন্ত প্রায় দুইশো গাছের ফলন সংগ্রহ করেছেন। এই ফলন স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী গ্রামগুলোতে উদ্ভাবনী চাষের উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা পেয়েছে। মিঠুর এই উদ্যোগের ফলে আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং আনারকলি চাষকে সম্ভাব্য আয় উৎস হিসেবে তুলে ধরেছে।

আনারকলি বাংলাদেশের কৃষি পরিমণ্ডলে ঐতিহ্যগতভাবে কম পরিচিত ফসল। উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ু ও মাটির উপযুক্ততা সত্ত্বেও, পূর্বে সীমিত পরিসরেই এই ফসল চাষ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে আনারকলি চাষের প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। তবে, বীজের অভাব, সঠিক সেচ ব্যবস্থা এবং বাজারের অজানা চাহিদা ইত্যাদি বাধা হিসেবে রয়ে গিয়েছিল। মিঠু এই চ্যালেঞ্জগুলোকে অতিক্রম করে নিজস্ব গবেষণা ও প্রতিবেশীর পরামর্শে সফল ফলন অর্জন করেছেন।

মিঠু বলেন, “শখের বশে শুরু করা এই চাষে আমি কখনোই ভাবিনি যে এত বড় সাফল্য পাবো। আনারকলি গাছের যত্ন নিতে গিয়ে আমি শিখেছি কীভাবে সঠিক সেচ, সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।” স্থানীয় কৃষি অফিসারও মিঠুর প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করে বলেছেন, “মেহেরপুরে আনারকলি চাষের এই উদাহরণ অন্য চাষিদের জন্য অনুপ্রেরণা হবে। আমরা এখন থেকে এই ধরনের সফল চাষকে সমর্থন করার জন্য প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা বাড়াব।” গ্রামবাসীরাও মিঠুর উদ্যোগে উৎসাহিত হয়ে নিজেদের জমিতে আনারকলি রোপণ শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা কৃষি অফিস মিঠুর সাফল্যকে নজরে রেখে আনারকলি চাষের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এতে বীজ সরবরাহ, সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন, এবং বাজার সংযোগের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র নতুন জাতের আনারকলি চাষের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাবে এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। ভবিষ্যতে আনারকলি চাষকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রপ্তানি সম্ভাবনা ও মূল্য নির্ধারণের নীতি প্রণয়ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com