সেন্ট মার্টিন দ্বীপে দৈনিক পর্যটক সীমা ২,০০০ থেকে ৩,৫০০ করে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং রাতযাপনের অনুমোদিত সময়কাল দুই মাস থেকে সাড়ে চার মাসে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, তবে একই সঙ্গে দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের উদ্বেগও তীব্রতর করেছে। সীমা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল ও গাইডের আয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে অতিরিক্ত পর্যটক প্রবাহে প্রাকৃতিক সম্পদ ও সমুদ্র পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করা হচ্ছে।
সেন্ট মার্টিন পূর্বে সীমিত সংখ্যক পর্যটকের জন্য পরিচিত ছিল; দ্বীপের সাদা বালির সমুদ্রতট, প্রবালপ্রাচীর ও সমৃদ্ধ জৈব বৈচিত্র্যই তার প্রধান আকর্ষণ। অতীতের পর্যটন নীতি অনুসারে দৈনিক ২,০০০ পর্যটকের সীমা নির্ধারিত ছিল, যা পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে সহায়ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটন আয় দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার পর্যটনকে ত্বরান্বিত করার জন্য সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদিও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলি পূর্বে দ্বীপের বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি রোধে কঠোর নিয়মের পক্ষে সুরক্ষা দিয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা ‘গ্রিন সেন্ট মার্টিন’ের সভাপতি মি. রহমান জানান, “পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানির মান ও সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। তাই পর্যটন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কঠোর পরিবেশগত নিয়মাবলী প্রয়োগ করা জরুরি।” অন্যদিকে, দ্বীপের হোটেল মালিক ও গাইডদের সমিতি প্রধান শ্রীমতি ফারহানা জাহান বলেন, “বর্ধিত পর্যটক সীমা আমাদের ব্যবসার জন্য স্বর্ণযুগের সূচনা করবে, তবে সরকার যদি যথাযথ অবকাঠামো ও পরিষেবা নিশ্চিত করে তবে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি আর্থিক উন্নয়নের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
সরকার ইতিমধ্যে সেন্ট মার্টিনে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি, পর্যটক প্রবেশের সময় নিবন্ধন, পরিবেশ সচেতনতা প্রশিক্ষণ এবং সীমিত এলাকায় প্রবেশের জন্য পারমিট ব্যবস্থা চালু করা হবে। ভবিষ্যতে দ্বীপের বাস্তুতন্ত্র রক্ষার জন্য সমুদ্র পরিষ্কার অভিযান, প্রবাল পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো পর্যটন বৃদ্ধিকে টেকসইভাবে পরিচালনা করে সেন্ট মার্টিনের পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।