cox24newsbd.com
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
গুলিস্তান–সদরঘাট সড়ক হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা, বসলে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি
ঢাকা

গুলিস্তান–সদরঘাট সড়ক হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা, বসলে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কটি সম্পূর্ণ হকারমুক্ত রাখার কঠোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই নির্দেশনা মান্য না করে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কটি সম্পূর্ণ হকারমুক্ত রাখার কঠোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই নির্দেশনা মান্য না করে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি সড়কের পাশে অবৈধভাবে দোকানপাট বা হকার বসায়, তবে তাদের সাথে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমকে আবারও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও যানবাহন চলাচলের জন্য অনুকূল করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে এই ঘোষণা নিয়ে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে হকারদের উপস্থিতি যানজট ও অনিয়মের প্রধান কারণ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছিল।

গুলিস্তান–সদরঘাট সড়কটি রাজধানীর একটি ব্যস্ততম ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে দৈনন্দিন হাজারো মানুষের চলাচল থাকে এবং এটি শহরের কেন্দ্রীয় অংশের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। গত কয়েক বছর ধরে এই সড়কের পাশে বিভিন্ন ধরনের হকার, দোকানপাট ও অবৈধ কাঠামো গড়ে ওঠে, যা সড়কের প্রস্থ কমিয়ে দিয়েছে এবং যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বারবার এই এলাকা পরিষ্কার করার চেষ্টা করলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি পুনরায় জটিল হয়ে পড়ত। এবারের ঘোষণাটি এমন একটি পটভূমিতে আসছে, যখন রাজধানীর যানজট নিরসন ও শহরের সৌন্দর্য বজায় রাখা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

এই ঘোষণা প্রকাশের পর স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যানবাহন চালকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ এতে তাদের চলাচল সহজ হবে এবং সময় সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে, কিছু হকার ও ছোট ব্যবসায়ীরা তাদের জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা দাবি করছেন যে, তাদেরকে বিকল্প ব্যবসায়িক স্থান প্রদান করা উচিত, যাতে তাদের জীবিকার উপর প্রভাব না পড়ে। স্থানীয় জনসাধারণের মতে, সড়ক পরিষ্কার হলে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটকদের জন্য এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। তবে, এই পদক্ষেপের বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘোষণা বাস্তবায়নে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত এই এলাকা পরিদর্শন করবেন। যেকোনো অবৈধ দখলদারিত্ব বা হকার বসানোর চেষ্টা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও, স্থায়ী সমাধান হিসেবে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে এই সড়কটি শুধুমাত্র যানবাহন চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে এবং এটি রাজধানীর একটি মডেল সড়ক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, জনসাধারণের সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে এবং রাজধানীর যানবাহন চলাচল ব্যবস্থা উন্নত হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com