cox24newsbd.com
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর
জাতীয়

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর

কক্সবাজারের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত একটি রিসোর্টে গত রাত ২২:৩০ টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে দশজন পর্যটকের প্রাণহানি ঘটেছে। আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার ঘনত্বের কারণে স্থানী
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

কক্সবাজারের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত একটি রিসোর্টে গত রাত ২২:৩০ টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে দশজন পর্যটকের প্রাণহানি ঘটেছে। আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার ঘনত্বের কারণে স্থানীয় জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, ফলে বহু মানুষ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। মৃতদেহ উদ্ধার করা হলে তা তৎক্ষণাত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিকটস্থ ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয় এবং পরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ এখনও তদন্তাধীন, তবে অস্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের ত্রুটি ও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কক্সবাজারের রিসোর্টগুলো দেশীয় ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। গত বছরেই এই অঞ্চলে পর্যটন আয় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, এবং রিসোর্টগুলোতে আধুনিক সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন দাবি করা হচ্ছিল। তবে পূর্বে একই রিসোর্টে অল্প মাত্রা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও যথাযথ তদন্ত ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা মানদণ্ডের অভাব, অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রের অনুপস্থিতি এবং জরুরি প্রস্থান পথের অপ্রতুলতা এই ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। সরকারী পর্যটন নীতি অনুযায়ী, রিসোর্টগুলোকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা দল ও স্থানীয় প্রশাসন থেকে মন্তব্য শোনা যায়। রিসোর্টের পরিচালক বলেন, “আমরা শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।” কক্সবাজার জেলা প্রশাসক জানান, “প্রাথমিক তদন্তে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় বড় ক্ষতি হয়েছে; দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” পর্যটন সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ জানায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে, “এই ঘটনার ফলে পর্যটকরা ভয় পাবে, ফলে আমাদের আয় হ্রাস পাবে।” তবে সরকারী পর্যটন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও মানসিক পরামর্শ প্রদান করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার দায়িত্ব অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ নির্ণয়, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। কমিটি রিসোর্টের অগ্নি নিরাপত্তা পরিদর্শন, কর্মী প্রশিক্ষণ এবং জরুরি প্রস্থান পথের পুনর্গঠনসহ একাধিক সুপারিশ প্রস্তুত করবে। পাশাপাশি, সরকারী পর্যটন নীতি অনুযায়ী রিসোর্টগুলোকে আন্তর্জাতিক অগ্নি নিরাপত্তা মানদণ্ডে আনতে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক শোকাহত পরিবারকে সরকারী ভাতা, চিকিৎসা ব্যয় এবং পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে রিসোর্টে অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র, অ্যালার্ম সিস্টেম এবং প্রশিক্ষিত সিকিউরিটি কর্মী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে পর্যটন শিল্পের সুনাম পুনরুদ্ধার এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com