cox24newsbd.com
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই নিষিদ্ধকরণে নতুন রেকর্ড: এক বছরে প্রায় ১২ হাজার গ্রন্থ বাতিল
আন্তজাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই নিষিদ্ধকরণে নতুন রেকর্ড: এক বছরে প্রায় ১২ হাজার গ্রন্থ বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বই নিষিদ্ধকরণের হার গত এক বছরে উদ্বেগজনক স্তরে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক বছরের মধ্যে দেশটি
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বই নিষিদ্ধকরণের হার গত এক বছরে উদ্বেগজনক স্তরে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক বছরের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রম থেকে প্রায় ১২ হাজার বই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি, যা দেশটির শিক্ষাঙ্গনে তথ্যের স্বাধীনতা ও পাঠ্যসূচির বৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রবণতা শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের অভাব সৃষ্টি করে না, বরং শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে বাধা সৃষ্টি করে।

এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের গভীর প্রভাব। বিভিন্ন রাজ্যের স্থানীয় শিক্ষা বোর্ড ও রাজনৈতিক নেতারা সংস্কৃতিক, ধর্মীয় বা নৈতিক কারণে নির্দিষ্ট কিছু বইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছেন। বিশেষ করে নারীবাদী, আফ্রিকান-আমেরিকান, এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা বা ইতিহাস বিষয়ক বইগুলোকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো এই ইস্যুটিকে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শিক্ষাবিদ, লেখক এবং অভিভাবকদের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষাবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বই নিষিদ্ধ করা মানে হলো শিক্ষার্থীদের থেকে তাদের জানার অধিকার কেড়ে নেওয়া, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে, কিছু অভিভাবক ও সংরক্ষণশীল গোষ্ঠী দাবি করছেন যে, নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু শিশুদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জনজীবনে এর প্রভাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা এখন তাদের পড়ার বিষয় নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা এমন তথ্যের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে যা তাদের সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বর্তমানে কোনো সুনির্দিষ্ট জাতীয় পর্যায়ে এই প্রবণতা থামানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে কিছু রাজ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে, যেখানে শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার মান ও বিশ্বস্ততা ক্ষুণ্ন হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশটির সামাজিক ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই শিক্ষাঙ্গনে বৈচিত্র্য ও তথ্যের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি স্তরে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com