cox24newsbd.com
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
হাতীবান্ধা সীমান্তে আলো জ্বেলে, ড্রোন দিয়ে রাতভর তল্লাশি, সেই ‘বাঘ’ কি পাওয়া গেল
সারাদেশ

হাতীবান্ধা সীমান্তে আলো জ্বেলে, ড্রোন দিয়ে রাতভর তল্লাশি, সেই ‘বাঘ’ কি পাওয়া গেল

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে গতরাতে শত শত টর্চ, মোবাইলের ফ্ল্যাশ এবং বিজিবি ড্রোনের আলো একত্রে জ্বলে উঠেছিল। স্থানীয় বন বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে গতরাতে শত শত টর্চ, মোবাইলের ফ্ল্যাশ এবং বিজিবি ড্রোনের আলো একত্রে জ্বলে উঠেছিল। স্থানীয় বন বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে বন্য প্রাণীটির সন্ধান নেওয়া হয়। বহু বছর আগে এই অঞ্চলে বাঘের দেখা গিয়েছিল বলে স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মী এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে তীব্র আলোকসজ্জা ও আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার সত্ত্বেও সন্ধ্যাকাল পর্যন্ত কোনো চিহ্ন, পা বা দেহের কোনো অংশ ধরা পড়েনি। সন্ধ্যা দশটায় তল্লাশি বন্ধ করে কর্মীরা অস্থায়ীভাবে ক্যাম্প স্থাপন করে পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেন। অনেকজনের প্রত্যাশা ছিল যে ড্রোনের উচ্চ রেজোলিউশন ক্যামেরা বাঘের গোপন পথ উন্মোচন করবে, তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও ঘন জঙ্গলের কাঠামো অনুসন্ধানকে কঠিন করে তুলেছিল। এ কারণে তল্লাশি দলকে অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও মানবশক্তি যুক্ত করতে হয়।

হাতীবান্ধা সীমান্তের এই অংশটি পূর্বে বহুবার বন্যপ্রাণীর অপ্রত্যাশিত প্রবেশের সাক্ষী হয়েছে। গৌরবপুর ও দৌলতপুরের সংলগ্ন জঙ্গলে বাঘ, চিতাবাঘ এবং বন্য হরিণের চলাচল রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষত ২০১৯ সালে একটি বাঘের দেহ স্থানীয় কৃষকের শস্যক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছিল, যা সীমান্ত পারাপার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, ভারতীয় রাজ্যের কাছাকাছি অবস্থিত এই অঞ্চলটি দুই দেশের বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক মাইগ্রেশন রুটের অংশ হিসেবে স্বীকৃত, ফলে কোনো একতরফা শিকারের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা প্রয়োজন। এই পটভূমি বিবেচনা করে, সরকার পূর্বে ক্যামেরা ট্র্যাপ ও সাউন্ড ডিটেক্টর স্থাপন করে বন্যপ্রাণীর গতি পর্যবেক্ষণ করছিল।

বন বিভাগ প্রধান মুজিবুর রহমানের মতে, ড্রোন তল্লাশি ব্যর্থ হলেও তথ্য সংগ্রহে অগ্রগতি হয়েছে; ড্রোনের রেকর্ডে কিছু অজানা প্রাণীর চলাচল দেখা গিয়েছে, তবে তা বাঘের চিহ্ন নয়। স্থানীয় কৃষক রশিদুল আলী জানান, গত কয়েক মাসে গবাদি পশু হারানোর ঘটনা বেড়েছে, যা বন্যপ্রাণীর আক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। পরিবেশ বিজ্ঞানী ডা. সুমাইয়া হক জোর দিয়ে বলেন, বাঘের স্বাভাবিক বাসস্থান হ্রাস পেয়েছে, ফলে তারা মানববসতিতে প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। নাগরিক সমাজের অধিকার গোষ্ঠী 'প্রকৃতি রক্ষা' এই ঘটনাকে বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণে সরকারের অপ্রতুল পদক্ষেপের সমালোচনা করে এবং তৎক্ষণাৎ কার্যকরী পরিকল্পনা দাবি করে।

অধিকারের ভিত্তিতে, বন বিভাগ আগামী মাসে অতিরিক্ত ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন এবং রেডিয়ো-ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাঘের সম্ভাব্য রুট চিহ্নিত করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, ভারতীয় বন বিভাগ ও সীমানা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণে যৌথ নজরদারি দল গঠন করা হবে। সরকারও স্থানীয় কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছে। ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণীর মানববসতিতে প্রবেশ রোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com