ঢাকার একটি বাণিজ্যিক এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ শাখা এই অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তাররা স্থানীয় একটি চাঁদাবাজি চক্রের সদস্য এবং তারা নিয়মিত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে অবৈধ আয় করে আসছিল। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গ্রেপ্তাররা ভুক্তভোগীকে তার ব্যবসার নামে বিভিন্ন প্রকার ফি ও চাঁদা দেওয়ার জন্য বাধ্য করছিল। তাঁদের কবল থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা দেন। তবে চক্রটির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা এই অর্থ গ্রহণ করেও আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ভুক্তভোগীর কাছে তখনকার মুহূর্তে তেমন পরিমাণ অর্থ না থাকায় তারা তাকে ধমক দিয়ে ছেড়ে দেয়। পরে ভুক্তভোগী পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত শুরু হয়।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা চাঁদাবাজির ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই চক্রের কারণে এলাকার অর্থনৈতিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়েছে এবং ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারাও এই চক্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা জাগিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং মানবিক নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন, এই চক্রের সাথে সম্পৃক্ত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে ঢাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং যেকোনো অনিয়মের খবর পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই পদক্ষেপে জনগণের মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার হয়েছে।