ঢাকা শহরে ৫ নভেম্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিজনেস সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনটি দেশের প্রযুক্তি খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামিটের মূল লক্ষ্য হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ব্যবসা মডেল ও পণ্যকে বাজারে পরিচিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। এ বছরের সমাবেশে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, শতাধিক স্টার্টআপ তাদের উদ্ভাবনী সমাধান ও পণ্য প্রদর্শনের জন্য এই মঞ্চে উপস্থিত হবে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে দ্রুত অগ্রগতি লাভ করেছে। সরকার ২০২২ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এআই গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে, ফলে বহু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্র এ ক্ষেত্রে সক্রিয় হয়েছে। পূর্বে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল ইনোভেশন ফোরাম’ এবং ‘টেকনোলজি এক্সপো’ তে এআই‑ভিত্তিক প্রকল্পের সফলতা এই সামিটের আয়োজনের পেছনে মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় স্টার্টআপের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবেশের দরজা খুলে গেছে, যা এই ইভেন্টকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
সামিটের আয়োজক কমিটি প্রধানের মতে, “এই সমাবেশটি কেবল প্রযুক্তিগত প্রদর্শনী নয়, বরং উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে সরাসরি সংযোগের সেতু গড়ে তুলবে।” স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতারা তাদের পণ্য ও সেবা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসীভাবে বলছেন যে, বাস্তব সমস্যার সমাধানে এআই‑ভিত্তিক উদ্ভাবন কতটা কার্যকরী হতে পারে। সরকারী প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের ইভেন্ট দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণ জনগণও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলছে, “যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এআই সমাধান সহজলভ্য হয়, তবে কাজের গতি ও গুণগত মান উভয়ই উন্নত হবে।”
অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সামিটের পরবর্তী পর্যায়ে ফলাফল ভিত্তিক নীতি প্রণয়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। মন্ত্রণালয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যা স্টার্টআপের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনা করে সহায়তা প্যাকেজ তৈরি করবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে প্রতি বছর এ ধরনের বিজনেস সামিটের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পরিবেশকে সমৃদ্ধ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে আঞ্চলিক হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য অর্জন করবে।