cox24newsbd.com
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
পর্যটকশূন্য সাজেকে সংকটে ব্যবসায়ীরা
অর্থনীতি

পর্যটকশূন্য সাজেকে সংকটে ব্যবসায়ীরা

সাজে শহরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে গত ছয় মাসে পর্যটক সংখ্যা অর্ধেকেরও কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, হস্তশিল্পে
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

সাজে শহরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে গত ছয় মাসে পর্যটক সংখ্যা অর্ধেকেরও কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, হস্তশিল্পের দোকান ও গাইড সার্ভিসের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, ফলে কর্মসংস্থান হ্রাস এবং দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়ছে। এই অবস্থা স্থানীয় অর্থনীতির সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সতর্কতা সৃষ্টি করেছে এবং জাতীয় পর্যটন নীতির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

সাজে পূর্বে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত ছিল; প্রাকৃতিক দৃশ্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং সাংস্কৃতিক উৎসবের সমন্বয় বহু দেশীয় ও বিদেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়নের ধীরগতি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক মহামারীর প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের পর্যটন প্রচারমূলক কার্যক্রমের ঘাটতি এই পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অতিরিক্তভাবে, পরিবহন সংযোগের দুর্বলতা এবং মৌসুমী বৃষ্টিপাতের ফলে পর্যটন মৌসুমের দীর্ঘায়ু হ্রাস পেয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মি. রশিদুল ইসলাম জানান, “প্রতিদিনের বিক্রয় আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে; কর্মী ছাঁটাই এবং ঋণ পরিশোধে সমস্যার মুখে পড়েছি।” হোটেল ব্যবস্থাপক শ্রীমতি নূরজাহা যোগ করেন, “বুকিং হ্রাসের ফলে গৃহস্থালী আয় কমে গিয়েছে, এবং আমরা এখনো কোনো সরকারী সহায়তা পাইনি।” অন্যদিকে, জেলা পর্যটন অফিসের কর্মকর্তা মি. তৌহিদুল হক উল্লেখ করেন, “পর্যটক সংখ্যা হ্রাসের পেছনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভুল ধারণা এবং পর্যাপ্ত তথ্য প্রচারের অভাব রয়েছে।” সাধারণ জনগণও এই সংকটের প্রভাব অনুভব করছে; হস্তশিল্প বিক্রেতা ও রাস্তায় খাবার বিক্রি করা বিক্রেতারা দৈনিক আয় কমে যাওয়ায় মৌলিক চাহিদা মেটাতে সমস্যার সম্মুখীন।

অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ এখনই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেলা প্রশাসন পর্যটন পুনরুজ্জীবনের জন্য “সাজে পুনরায় উজ্জ্বল” শিরোনামে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, যার মধ্যে রোড ও সেতু সংস্কার, নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, পর্যটন মন্ত্রণালয় বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঋণ মওকুফ এবং নগদ তহবিল প্রদান করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি বৃহৎ প্রচারমূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হবে, যাতে দেশীয় ও বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা যায়। এসব পদক্ষেপের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং পর্যটন নীতির ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণই সাজের ব্যবসায়ীদের সংকটমুক্ত করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com