cox24newsbd.com
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ধরা হচ্ছে ইলিশ, সরকারি সহায়তা পাননি কোনো জেলে
অপরাধ

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ধরা হচ্ছে ইলিশ, সরকারি সহায়তা পাননি কোনো জেলে

সন্দ্বীপের কয়েকটি ঘাটে সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ তীব্রভাবে উত্থাপিত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের জানামতে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গৃহীত
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

সন্দ্বীপের কয়েকটি ঘাটে সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ তীব্রভাবে উত্থাপিত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের জানামতে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গৃহীত পদক্ষেপের পরেও শিকারের জাল, নেট ও গিলস ব্যবহার করে ইলিশ ধরা হচ্ছে এবং তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে মৎস্য বিভাগের দল ঘাটে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন জালবদ্ধকারী ও বিক্রেতাদের ধরার চেষ্টা করলেও কোনো সফলতা অর্জন করতে পারেনি। এই ঘটনার ফলে ইলিশের সংরক্ষণ নীতি ও মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ইলিশের মৌসুমী নিষেধাজ্ঞা ২০২২ সাল থেকে সরকারীভাবে আরোপিত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হল অতিরিক্ত শিকারের ফলে প্রজাতির সংখ্যা হ্রাস রোধ করা এবং প্রজনন মৌসুমে মৎস্যসম্পদকে পুনরুজ্জীবিত করা। সন্দ্বীপ, যা বঙ্গোপসাগরের প্রবেশদ্বার এবং সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ, ঐতিহাসিকভাবে ইলিশ শিকারের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে অতিরিক্ত শিকারের ফলে ইলিশের প্রজনন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৎস্য উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। পূর্বে মৎস্য বিভাগ কঠোর নজরদারি ও জরিমানা আরোপের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার চেষ্টা করলেও, ঘাটের অগভীর জলের গোপনীয়তা ও স্থানীয় জালের নেটওয়ার্কের জটিলতা কার্যকর শিকারের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, “নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী শিকারের জালবদ্ধকারী ও বিক্রেতাদের সনাক্ত করতে অতিরিক্ত নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন।” স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি রাব্বি হক উল্লেখ করেন, “অনেক পরিবারই ইলিশের ওপর নির্ভরশীল, তবে নিষেধাজ্ঞা মানলে জীবিকার বিকল্প খুঁজতে হবে।” পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা ‘গ্রিন বেল্ট’ের গবেষক সুমাইয়া রায় মন্তব্য করেন, “ইলিশের প্রজনন মৌসুমে শিকারের অব্যাহততা সামগ্রিক ইকোসিস্টেমের ভারসাম্যকে ক্ষুণ্ন করে।” সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের সুর শোনা যায়, বিশেষত তরুণ মৎস্যজীবীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

অধিকতর কার্যকরী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মৎস্য বিভাগ এখন থেকে ড্রোন পর্যবেক্ষণ, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ঘাটে নিয়মিত তদারকি করবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকার জরিমানা এবং কারাদণ্ডের বিধান প্রণয়ন করা হবে। সরকারী সহায়তা পেতে না পারা কোনো জেলে শিকারের অভিযোগে দায়ী হলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের সচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টিকরণ এবং টেকসই মৎস্যচর্চা প্রচারের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইলিশের সংরক্ষণ ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা দুটোই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com