cox24newsbd.com
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ব ঋণের ভার ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে, বাংলাদেশ ৪৫তম স্থানে
অর্থনীতি

বিশ্ব ঋণের ভার ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে, বাংলাদেশ ৪৫তম স্থানে

বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে, যখন বিশ্বের মোট ঋণের পরিমাণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই চরম ঋণের ভারের মুখোমুখি বিশ্ব অর্থনীতি এখন
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে, যখন বিশ্বের মোট ঋণের পরিমাণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই চরম ঋণের ভারের মুখোমুখি বিশ্ব অর্থনীতি এখন একটি সংকটপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে, যা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত দেশটির জন্য উদ্বেগের কারণ। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এই তালিকায় ৪৫তম স্থানে অবস্থান করছে, যা দেশের বর্তমান ঋণের পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। এই বিশাল ঋণের ভার শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা কর্পোরেট খাতকে নয়, বরং রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিগুলোকেও প্রভাবিত করছে, ফলে বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

এই ঋণের ভারের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ। বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে, ব্যাপক সরকারি খরচ, সামরিক বাজেট এবং কর কমানোর নীতিমালা ঋণের এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ তার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় অত্যন্ত উচ্চ হারে রয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা জাল বজায় রাখতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। বিশ্ববাজারে সুদের হার বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্বীকৃতির চাপে ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বের ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হয়েছে। একদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বাংলাদেশের ঋণের অনুপাত জিডিপির তুলনায় এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দেশটি ঋণ পরিশোধের যথেষ্ট সক্ষমতা ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, আরেকদিকের বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং সুদের হারের বৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের ক্ষমতাকে বিপর্যস্ত করতে পারে। জনজীবনে এর প্রভাব হিসেবে, মুদ্রাস্বীকৃতির চাপে দৈনন্দিন পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক খাতে ঋণ পাওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও, সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে বিদেশি সাহায্য ও ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়লে দেশের স্বাধীন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ঋণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে, যাতে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে আরও সতর্ক থাকে। সরকার এখন অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আলোচনা করে ঋণের সুদের হার কমানো এবং মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, বিশ্বের ঋণের ভার কমানোর জন্য বিশ্বব্যাপী সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকি কমানো যায় এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশের জন্য, ঋণের ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক নীতিমালায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com