cox24newsbd.com
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইলে পিপিপি কর্পোরেশনের নীতিগত অনুমোদন: অর্থনীতিতে নতুন মাইলফলক
অর্থনীতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইলে পিপিপি কর্পোরেশনের নীতিগত অনুমোদন: অর্থনীতিতে নতুন মাইলফলক

বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পে সরকারি খাতের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কোকিল টেক্সটাইল মিলে পিপিপি কর্পোরেশনের পরিচালনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পে সরকারি খাতের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কোকিল টেক্সটাইল মিলে পিপিপি কর্পোরেশনের পরিচালনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের অর্থনীতি, বিশেষত বস্ত্রশিল্প খাতে নতুন করে জীবন্ত করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত এই মিলটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় ভুগছে এবং উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। সরকারের এই নীতিগত অনুমোদনের ফলে আগামী দিনে এই মিলটি আবারও কার্যকরীভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোকিল টেক্সটাইল মিলটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাছে অবস্থিত একটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান, যা একসময় হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস ছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে যাওয়া এবং বাজারজায়মানে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার কারণে মিলটি ধীরে ধীরে অবহেলিত অবস্থায় চলে আসে। সরকারি খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং দেশের বস্ত্রশিল্পে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পিপিপি কর্পোরেশনকে এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের শিল্প নীতিমালায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যেখানে সরকারি সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং জনসাধারণের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, মিলটি আবারও চালু হলে হাজারো বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যা অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন করে প্রাণ ফেরত আনবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ এটি অঞ্চলের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, মিলটি আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হতে হলে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের প্রয়োজন, যা পিপিপি কর্পোরেশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নীতিগত অনুমোদনের পরপরই মিলটির পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে মিলের বর্তমান অবস্থা যাচাই, যন্ত্রপাতি মেরামত ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা এবং দক্ষ কর্মী নিয়োগ। পিপিপি কর্পোরেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগ করে এই মিলটিকে আবারও সফল একটি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করবে। ভবিষ্যতে এই মিলটি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি বাজারেও প্রতিযোগিতায় থাকার লক্ষ্যে কাজ করবে। এই পদক্ষেপটি দেশের বস্ত্রশিল্পে সরকারি খাতের ভূমিকা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন করে প্রাণ ফেরাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com