cox24newsbd.com
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
চাপে মোদি সরকার, আন্দোলন থেকে নজর সরাতে এগোচ্ছে ভিন্ন কৌশলে
আন্তজাতিক

চাপে মোদি সরকার, আন্দোলন থেকে নজর সরাতে এগোচ্ছে ভিন্ন কৌশলে

মোদি সরকারের মুখে তীব্র রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, বিশেষত কৃষক আন্দোলন এবং নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত প্রতিবাদে সরকারের নীতি-নির্ধারণে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিচ্ছে। গত সপ
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

মোদি সরকারের মুখে তীব্র রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, বিশেষত কৃষক আন্দোলন এবং নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত প্রতিবাদে সরকারের নীতি-নির্ধারণে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিচ্ছে। গত সপ্তাহে দিল্লিতে একাধিক শহরে বিশাল সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে সরকারকে ন্যায়সঙ্গত নীতি গ্রহণের আহ্বান জানায়। একই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণ করতে বিভিন্ন ধরণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ ঘোষণা করে, যা মূলত বিদ্যমান আন্দোলনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। এই পরিবর্তনশীল কৌশল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপথ তৈরি করেছে।

কৃষক আন্দোলন ২০২০ সালের শেষের দিকে শুরু হয়, যখন কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি কৃষি আইন প্রণয়ন করে, যা কৃষকদের বাজারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ সীমিত করে এবং বড় কর্পোরেট সংস্থার প্রভাব বাড়ায় বলে অভিযোগ তোলা হয়। এরপর থেকে দেশব্যাপী বহু শহরে প্রতিবাদ, ধ্রুবক ধাক্কা এবং রেলপথে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনের মূল দাবি হল আইন প্রত্যাহার এবং কৃষকদের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা। পূর্বে সরকার আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করলেও, প্রতিবাদকারীদের অসন্তোষ অব্যাহত থাকে, ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে।

বিপক্ষের নেতারা, বিশেষত প্রধান বিরোধী দল এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠন, সরকারের এই নতুন কৌশলকে 'মনোযোগ বিচ্যুতি' হিসেবে সমালোচনা করেছে। একাধিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন যে, জনসাধারণের মনোযোগকে অন্যদিকে সরিয়ে নিলে মূল সমস্যার সমাধান থেকে দূরে সরে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিবাদকারীরা সামাজিক মিডিয়ায় সরকারের নতুন উদ্যোগকে 'অস্থায়ী মিথ্যা প্রতিশ্রুতি' বলে অভিহিত করেছে এবং তাদের দাবি পুনরায় তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই কৌশলকে নিয়ে বিভাজন দেখা যায়; কেউ নতুন নীতি গ্রহণে আশাবাদী, আবার কেউ তা কেবল রাজনৈতিক কৌশল বলে মনে করে।

সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কয়েকটি অর্থনৈতিক প্যাকেজ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে, যা বিশেষ করে যুবক ও নারীদের জন্য লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকার আইনসভা সমিতির মাধ্যমে কৃষি আইন পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছে, তবে তা বাস্তবায়নে সময়সীমা স্পষ্ট করা হয়নি। ভবিষ্যতে সরকার যদি প্রকৃতপক্ষে আন্দোলনের মূল দাবিগুলোকে স্বীকার করে সংশোধনী আনে, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেতে পারে। অন্যথায়, নতুন কৌশল দীর্ঘমেয়াদে জনমতকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com