cox24newsbd.com
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
জাপানের তোইয়ামা যেভাবে শহরকে মানুষের কাছে আনছে
আন্তজাতিক

জাপানের তোইয়ামা যেভাবে শহরকে মানুষের কাছে আনছে

প্রায় দুই দশকের কমপ্যাক্ট সিটি নীতি চালু করার পর, জাপানের তোইয়ামা শহর এখন এআইভিত্তিক গণপরিবহন ও সমন্বিত ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে শহরতলির বাসিন্দাদেরও শহরের মূল সেব
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

প্রায় দুই দশকের কমপ্যাক্ট সিটি নীতি চালু করার পর, জাপানের তোইয়ামা শহর এখন এআইভিত্তিক গণপরিবহন ও সমন্বিত ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে শহরতলির বাসিন্দাদেরও শহরের মূল সেবা ও সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করার নতুন মডেল প্রয়োগ করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল শহরের ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, ফলে শহরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি পাবে। এআই চালিত রিয়েল‑টাইম রুট পরিকল্পনা, স্বয়ংক্রিয় বাস শিডিউল এবং একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সব সেবা একত্রিত করা এই নীতির মূল ভিত্তি।

তোইয়ামার এই রূপান্তরের পটভূমি হল ২০০০ সালের শেষের দিকে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পার্কিং, ট্রাফিক জ্যাম এবং পরিবেশ দূষণের সমস্যা তীব্রতা লাভ করা। ঐতিহ্যবাহী বাস ও রেল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় শহর পরিকল্পনা বিভাগ প্রথমে কমপ্যাক্ট সিটি নীতি গ্রহণ করে, যেখানে উচ্চ ঘনত্বের আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা একসঙ্গে গড়ে তোলা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নীতি একক পরিবহন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ফলে শহরতলির বাসিন্দারা শহরের মূল সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সমস্যার সমাধানে এআই প্রযুক্তি ও ডিজিটাল একীকরণকে মূল কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

নতুন সেবা চালু হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। তোইয়ামা নগর পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান ড. হিরোশি তানাকা উল্লেখ করেন, “এআইভিত্তিক রুট অপটিমাইজেশন সিস্টেমের মাধ্যমে বাসের অপেক্ষার সময় অর্ধেকের কমে গেছে, ফলে কর্মচারী ও ছাত্রদের সময় সাশ্রয় হয়েছে।” একই সঙ্গে, শহরের এক তরুণ উদ্যোক্তা বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একসাথে ট্যাক্সি, বাস, শেয়ার্ড সাইকেল ও পেমেন্ট সেবা পাওয়া সহজ হয়েছে, যা ব্যবসা চালাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।” তবে কিছু বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়লে তথ্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই যথাযথ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন।

তোইয়ামা নগর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এআই সিস্টেমের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং পরবর্তী পাঁচ বছরে শহরের সব পাবলিক সেবায় ডিজিটাল একীকরণ বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, সরকার স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করে ডেটা গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নীতি প্রণয়ন করছে। ভবিষ্যতে এই মডেলকে অন্যান্য জাপানি শহর ও আন্তর্জাতিক শহরগুলোর জন্য রেফারেন্স হিসেবে উপস্থাপন করা হবে, যাতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের নগর পরিকল্পনা ও পরিবহন নীতিতে মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করা যায়।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com