cox24newsbd.com
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
চুয়েট উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীরবতা: গণমাধ্যমের প্রতিবেদন উপেক্ষায় প্রশ্ন
ক্যাম্পাস

চুয়েট উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীরবতা: গণমাধ্যমের প্রতিবেদন উপেক্ষায় প্রশ্ন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে জ
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একজন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সক্রিয় আন্দোলন করে যাচ্ছেন, যা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তবুও সরকারি কর্তৃপক্ষ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে উপেক্ষা করে ‘না দেখার ভান’ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোয় এই আন্দোলনের খবর ফলাও করে প্রকাশিত হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে, যা দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম। চুয়েটের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান উপাচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ হয়নি এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের নীতিমালা লঙ্ঘনকারী। এই আন্দোলন কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধী আন্দোলন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে এই আন্দোলনের বৈধতা ও জনমতের প্রতিফলন স্পষ্ট হলেও, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সংবাদগুলোকে আমলে না নিয়ে নীরবতা অবলম্বন করায় শিক্ষা জগতে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলো মন্তব্য করেছেন, সরকারের এই নীরবতা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রতি আঘাত। তারা দাবি করেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত ও জনমতের প্রতি সরকারের উদাসীনতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরোধী। জনজীবনে এর প্রভাব হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই অবস্থান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপ হিসেবে কোনো প্রকার তদন্ত কমিটি গঠন বা আনুষ্ঠানিক উত্তর প্রদানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, যা ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটকে অন্ধকার করে তুলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবিলম্বে এই বিষয়ে স্বচ্ছ ও ন্যায়বিচারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে বিশ্লেষকদের পরামর্শ। যদি সরকার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও জনমতকে উপেক্ষা করে নীরবতা অবলম্বন করতে থাকে, তবে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়াই হবে সরকারের জবাবদিহিতার পরিচয়।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com