cox24newsbd.com
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ফলের কদর থাকলেও অবহেলায় ঝরে চালতার ফুল
জাতীয়

ফলের কদর থাকলেও অবহেলায় ঝরে চালতার ফুল

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রতি প্রকাশিত কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফলের বাগানে যথাযথ সেচ ও সার প্রয়োগের পরেও ধানক্ষেতের ফুল ফোটাতে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। বিশ
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রতি প্রকাশিত কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফলের বাগানে যথাযথ সেচ ও সার প্রয়োগের পরেও ধানক্ষেতের ফুল ফোটাতে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। বিশেষত গাজীপুর, পঞ্চগড় ও নড়াইলের কিছু বড় ধানক্ষেতে ফসলের প্রারম্ভিক পর্যায়ে অল্প পরিমাণে ফুল দেখা গিয়েছে, যা পরবর্তী ফলন হ্রাসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরুরি সমীক্ষা জানায়, ফলের চাষে অতিরিক্ত মনোযোগের ফলে ধানক্ষেতের সেচ, সার ও কীটনাশকের যথাযথ ব্যবহার অবহেলিত হয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

এই সমস্যার পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফলের রপ্তানি বাড়াতে সরকারী নীতি ও বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলের বাগানের জন্য বিশেষায়িত সেচ প্রকল্প, উচ্চমানের সার ও আধুনিক কটন প্রযুক্তি প্রয়োগে তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে একই সময়ে ধানক্ষেতের জন্য প্রয়োজনীয় সেচ নেটওয়ার্কের পুনর্নবীকরণ, সঠিক সময়ে বীজ বপন ও সার প্রয়োগের পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। অতিরিক্তভাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের অনিয়মিততা ও তাপমাত্রার বৃদ্ধি ধানফুলের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করেছে।

কৃষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, “ফলবাগানের জন্য যে সহায়তা পাওয়া যায়, তা ধানক্ষেতের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে আমাদের ধানক্ষেতের সেচ ব্যবস্থা পুরনো, সার প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে।” কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ড. রুবেল হক উল্লেখ করেন, “ফলবাগানের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগের ফলে ধানফসলের মৌসুমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এটি শুধুমাত্র ফলনের হ্রাসই নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে, “যদি ধানফসলের ফলন কমে যায়, তবে বাজারে চালের দাম বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় সমস্যা।”

অধিকর্তা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সমাধানের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় আগামী ত্রৈমাসিকে ধানক্ষেতের জন্য বিশেষ সেচ প্রকল্প চালু করবে, যার মধ্যে পুরনো সেচ নেটের মেরামত ও নতুন ড্রিপ সেচ ব্যবস্থা স্থাপন অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি, ধানক্ষেতের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সার ও কীটনাশকের সাবসিডি প্রদান করা হবে এবং কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারী পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী দুই বছর মধ্যে ধানফসলের ফলনকে পূর্ববর্তী স্তরে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সমন্বিত নীতি প্রণয়ন করা হবে, যাতে ফলের কদর ও ধানের সুরক্ষার মধ্যে সুষম সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com