cox24newsbd.com
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য
ক্যাম্পাস

প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (চুয়েট) ক্যাম্পাসে গত রাত্রি থেকে আজ প্রাতঃকাল পর্যন্ত উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রশিদ হককে প্রায় পনেরো ঘণ্টা ধরে অবরুদ
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (চুয়েট) ক্যাম্পাসে গত রাত্রি থেকে আজ প্রাতঃকাল পর্যন্ত উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রশিদ হককে প্রায় পনেরো ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করা হয়। অবরুদ্ধকরণটি ছাত্র-শিক্ষক সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটেছে, যেখানে কিছু ছাত্র গোষ্ঠী ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট প্রবেশপথে বাধা সৃষ্টি করে এবং উপাচার্যের গাড়ি আটকায়। নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধকরণ শেষ হওয়া সত্ত্বেও, ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটির তীব্রতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা জাতীয় পর্যায়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

চুয়েটের এই অবরুদ্ধকরণে পেছনের পটভূমি দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষার্থী-প্রশাসনিক বিরোধে নিহিত। গত কয়েক মাসে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী গোষ্ঠী ও প্রশাসনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়, বিশেষত ভর্তি নীতি, আর্থিক সহায়তা এবং ক্যাম্পাসের অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত। পূর্বে একই ধরনের প্রতিবাদে ছাত্ররা ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশদ্বার বন্ধ করে এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ চেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উপাচার্যকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, কারণ তিনি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নীতি পরিবর্তনের দায়িত্বে ছিলেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।

অবরুদ্ধকরণের সময় ড. রশিদ হক একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জানান, অবরুদ্ধকরণটি শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত অবসান নয়, বরং শিক্ষাগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ক্যাম্পাসের শিক্ষক সমিতি ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে, শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা না দিয়ে সমস্যার সমাধান চায়। সাধারণ জনগণও সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানায়।

অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে অবরুদ্ধকরণ সমাপ্ত করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা শুরু করে। ক্যাম্পাস নিরাপত্তা কমিটি জরুরি সভা আহ্বান করে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বার ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। উপাচার্যকে নিরাপদে ক্যাম্পাসে ফেরত আনার পর তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি সমন্বিত বৈঠক করার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে উভয় পক্ষের চাহিদা ও উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা যায়। সরকারী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করার কথা জানিয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com