মাল্টা ও মরিচের চা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও গৃহস্থালিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই চায়ের মূল উপাদান হল মাল্টা, যা উচ্চমানের শস্যের এক প্রকার এবং তাজা কাঁচা মরিচ, যা একত্রে মিশ্রিত করে উষ্ণ পানীয়ের রূপে পরিবেশন করা হয়। স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিকদের মধ্যে এর প্রতিরোধী অক্সিডেশন গুণ এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করার ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় খাবার সংরক্ষণ ও প্রচার অধিদপ্তর এই পানীয়কে ঐতিহ্যবাহী খাবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
মাল্টা ও মরিচের চায়ের উৎপত্তি মূলত পূর্বে উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় পাওয়া যায়, যেখানে শীতকালে শারীরিক উষ্ণতা বজায় রাখতে এই মিশ্রণটি প্রচলিত ছিল। ঐতিহ্যবাহী রেসিপিতে মাল্টা শস্যকে সূক্ষ্মভাবে পেষণ করে গরম পানিতে ফুটিয়ে নেওয়া হয়, এরপর তাজা মরিচের কুঁচি যোগ করে কয়েক মিনিটের জন্য ঢাকনা বন্ধ রাখা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চায়ের রঙ গাঢ় বাদামী থেকে গাঢ় লালচে রঙে পরিবর্তিত হয়, যা স্বাদে তীক্ষ্ণতা ও মিষ্টতার সমন্বয় ঘটায়। অতীতের গ্রাম্য সমাজে এই চা শীতের রোগ প্রতিরোধে এবং শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে ব্যবহৃত হতো, ফলে আজকের আধুনিক সমাজে এর ঐতিহাসিক মূল্যবোধ পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে।
বিভিন্ন শেফ ও পুষ্টিবিদদের মতে, মাল্টা ও মরিচের চা শুধুমাত্র স্বাদে সমৃদ্ধ নয়, বরং এতে উপস্থিত প্রাকৃতিক ক্যাফেইন ও ক্যাপসাইসিন যৌগের সমন্বয় শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিভাগে গবেষণা দল এই চায়ের নিয়মিত সেবনকে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক; সামাজিক মাধ্যমে চায়ের রেসিপি শেয়ার করা পোস্টের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বহু গৃহিণী এই পানীয়কে দৈনন্দিন নাস্তার অংশ হিসেবে গ্রহণ করছেন।
সরকারি দিক থেকে, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় এই অনন্য চায়ের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ প্রকল্প চালু করেছে। কৃষক সমিতিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মাল্টা শস্যের চাষের মানোন্নয়ন এবং মরিচের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি, জাতীয় পর্যটন বোর্ড এই চায়ের সংস্কৃতি‑ভিত্তিক ট্যুর প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে এই চায়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেলে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিক উন্মোচিত হবে।