গতকাল সন্ধ্যায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের পরিচালিত এক রকেট হামলা সংঘটিত হয়। রকেটটি টার্মিনাল‑২ এর কাছে অবতরণ করে, ফলে টার্মিনাল‑১ এবং টার্মিনাল‑৩ এর উড্ডয়ন পথ অবিলম্বে বন্ধ করা হয়। নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত এলাকাটি খালি করে, যাত্রী ও কর্মচারীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করে। এভিয়েশন অ্যানালিটিকস ফার্মের তথ্য অনুযায়ী, আজ রিয়াদের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ষাট শতাংশ বাতিল হতে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংযোগকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করবে। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
হুতি গোষ্ঠী গত কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন রকেট ও ড্রোন আক্রমণ চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালে তেল রিফাইনারি ও পেট্রোল পাম্পে আক্রমণ, ২০২৩ সালে জেদ্দা বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা এই ধারার অংশ। রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান হাব, পূর্বে একাধিকবার হুতির হুমকির মুখে পড়েছে, তবে এইবার সরাসরি রকেট আঘাতের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, ইরান ও সৌদি আরবের পারস্পরিক বিরোধ, এবং ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের পরিণতি এই ধরনের আক্রমণকে আরও জটিল করে তুলছে।
সৌদি সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (GACA) তৎক্ষণাৎ একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে, সকল ফ্লাইটকে অস্থায়ীভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেয় এবং যাত্রীদের রিফান্ড বা পুনঃনির্ধারণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিরা বলছেন, রিকোয়েস্টের পরিমাণ অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি, ফলে সিস্টেমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীরা উদ্বেগের সাথে অপেক্ষা করছেন, কেউ কেউ রিয়াদ থেকে অন্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হুতির এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেবে এবং বীমা প্রিমিয়াম ও টিকিট মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেছে এবং হুতির রকেটের সঠিক উৎস ও পথ নির্ণয়ের জন্য আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেছে। পাশাপাশি, বিমানবন্দরের রাডার ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে আপগ্রেড করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ হুমকি দ্রুত সনাক্ত ও নিরসন করা যায়। সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, হুতির আক্রমণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদের আকাশে স্বাভাবিক উড্ডয়ন পুনরায় শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।