cox24newsbd.com
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ: অভিজিৎ দিপকে
আন্তজাতিক

মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ: অভিজিৎ দিপকে

ঢাকা, ১১ অক্টোবর—বাংলাদেশের প্রাক্তন পার্লামেন্টার ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অভিজিৎ দিপকে গতকাল জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে এক চমকপ্রদ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

ঢাকা, ১১ অক্টোবর—বাংলাদেশের প্রাক্তন পার্লামেন্টার ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অভিজিৎ দিপকে গতকাল জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে এক চমকপ্রদ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছেন। দিপকে উল্লেখ করেন, মোদের নীতিগত দিকনির্দেশনা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশকে অগ্রাহ্য করা এবং প্রতিবেশী দেশের স্বায়ত্তশাসনকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। এই মন্তব্যটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দু'দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

মোদি সরকারের অধীনে ভারতের নীতি পরিবর্তনগুলো বিশেষত ২০২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন, শরণার্থী নীতি এবং সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে শরণার্থী সমস্যার জটিলতা বাড়ে এবং সীমান্তে বাণিজ্যিক বাধা সৃষ্টি হয়। অতীতেও দুই দেশের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ভাগাভাগি ও বিদ্যুৎ রপ্তানি সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে, তবে তা সাধারণত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। দিপকের মন্তব্যের পটভূমি এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের সঞ্চয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্রতর হয়েছে।

দিপকের মন্তব্যের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে যে ভারতের নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গৃহীত এবং কোনো প্রতিবেশী দেশের স্বায়ত্তশাসনকে হুমকি দেয় না। তদুপরি, বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্রও মন্তব্য করে, তিনি দিপকের মতামতকে ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে গণ্য করেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের উক্তি উভয় দেশের জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে এবং কূটনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ায়। সামাজিক মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা যায়, কিছু লোক দিপকের সমর্থন করে, আবার অন্যরা তা অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দু'দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। আগামী সপ্তাহে ঢাকা ও নিউ দিল্লি শহরে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক বিষয়ক আলোচনার জন্য বিশেষ দল পাঠানো হবে। পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা সংস্থার (SAARC) ফ্রেমওয়ার্কে বিষয়টি উত্থাপিত হবে এবং সমাধানের জন্য যৌথ কর্মসূচি গঠন করা হবে বলে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা জানান। ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্যের প্রভাব কমাতে দু'দেশের কূটনৈতিক সংলাপকে শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দেন।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com