cox24newsbd.com
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
নাভি পিল্লাইয়ের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি
জাতিসংঘ

নাভি পিল্লাইয়ের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি

সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার সমাবেশে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার ক্ষেত্রে বিশাল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের প্রাক্তন মানবা
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার সমাবেশে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার ক্ষেত্রে বিশাল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের প্রাক্তন মানবাধিকার প্রধান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিজে) বিচারক নাভি পিল্লাইকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারটি পিল্লাইয়ের মানবাধিকার রক্ষার জন্য গৃহীত বহু আন্তর্জাতিক চুক্তি, যুদ্ধাপরাধের বিচার ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। পুরস্কার বিতরণে নোবেল কমিটির মুখপাত্রের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, পিল্লাইয়ের কাজ আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোকে দৃঢ় করে এবং বিশ্ব শান্তির ভিত্তি স্থাপন করেছে।

নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক আইনের বিকাশে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে কাজ করেন, যেখানে তিনি মানবাধিকার সংরক্ষণে বহু গুরুত্বপূর্ণ রেজলিউশন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য কঠোর রায় প্রদান করেন। তার কর্মজীবনে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগে স্বচ্ছতা, স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর তৎক্ষণাৎ শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নাভি পিল্লাইয়ের অর্জন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আমাদের সম্মান ও গর্বের প্রতীক। দেশীয় মানবাধিকার সংস্থা ও একাডেমিক সম্প্রদায়ও পিল্লাইয়ের কাজকে প্রশংসা করে, তিনি যে ন্যায়বিচার ও শান্তির আদর্শ গড়ে তুলেছেন তা বাংলাদেশের নীতি ও কূটনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করে। সামাজিক মাধ্যমে নাগরিকদের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক, বহু মানুষ নাভি পিল্লাইকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে স্বাগত জানায়।

বাংলাদেশ সরকার নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল পুরস্কারকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দেশের অঙ্গীকারের নতুন উদ্দীপনা হিসেবে গ্রহণ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আইনের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য নতুন তহবিল গঠন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফোরামে দেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং আইসিজে সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ভবিষ্যতে নাভি পিল্লাইয়ের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে জাতীয় আইনি কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য আইন সংস্কার ও নীতি নির্ধারণে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com