কেশবপুরের আবদুল্লাহ, যিনি মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি চার বছর ধরে শৌখিন মাছ চাষে লিপ্ত, ৪০ টাকার দুটি মাছ থেকে শুরু করে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৩০ লাখ টাকার হ্যাচারি গড়ে তুলেছেন। তিনি প্রথমে নিজের ছোট গৃহস্থালির ট্যাঙ্কে দুটি সোনালি মাছ চাষ করেন, যা পরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আয়ের উৎস তৈরি করেন। ধাপে ধাপে তিনি মাছের প্রজনন প্রযুক্তি শিখে, ট্যাঙ্কের আকার বাড়িয়ে, এবং সঠিক খাদ্য ও পানির গুণগত মান বজায় রেখে হ্যাচারির আকার বৃদ্ধি করেন। বর্তমানে তার হ্যাচারি ১,০০০ টিরও বেশি মাছ উৎপাদন করে, যা দেশের বিভিন্ন প্রদেশে বিতরণ হয়, এবং তার আয় ৩০ লাখ টাকারও বেশি।
আবদুল্লাহর এই সফলতার পেছনে রয়েছে তার অটল অধ্যবসায় ও শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা। মাদ্রাসায় পড়াশোনার সময় তিনি মাছ চাষের প্রতি আগ্রহী হন এবং স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে প্রাথমিক জ্ঞান সংগ্রহ করেন। তিনি নিজে ছোটখাটো ট্যাঙ্কে মাছ চাষের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন, এরপর স্থানীয় ব্যাংক থেকে ৫,০০০ টাকার ছোট ঋণ নিয়ে ট্যাঙ্ক ও সরঞ্জাম ক্রয় করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি অনেক সমস্যার মুখোমুখি হন, যেমন পানির গুণগত মান বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধ, এবং বাজারে বিক্রির চ্যালেঞ্জ। তবু তিনি ধৈর্য ধরে প্রযুক্তি শিখে, স্থানীয় মৎস্য সমিতির সঙ্গে সহযোগিতা করে, এবং গ্রামবাসীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ধাপে ধাপে হ্যাচারির আকার বাড়ান।
আবদুল্লাহ বলেন, “মাছ চাষে সফল হতে হলে প্রথমে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান থাকা জরুরি। আমি মাদ্রাসার পাঠক্রমের পাশাপাশি অনলাইন কোর্স ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রযুক্তি শিখেছি।” স্থানীয় গ্রামবাসীরা তার সফলতাকে উদাহরণ হিসেবে দেখে, এবং অনেক তরুণ এখন মাছ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। গ্রাম প্রধানও বলেন, “আবদুল্লাহর হ্যাচারি গ্রামে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং কৃষি-অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারী মৎস্য বিভাগ আবদুল্লাহর হ্যাচারিকে ‘উদাহরণযোগ্য মৎস্য উদ্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজারে প্রবেশের জন্য অনুদান প্রদান করেছে। এছাড়াও, মৎস্য বিভাগ গ্রামীণ এলাকায় মাছ চাষের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে, যাতে আবদুল্লাহর মতো উদ্যোক্তারা আরও উন্নত প্রযুক্তি শিখতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি হ্যাচারির আকার দ্বিগুণ করে ৫,০০০ টিরও বেশি মাছ চাষের পরিকল্পনা করছেন, এবং টেকসই চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করে পরিবেশবান্ধব মাছ চাষকে এগিয়ে নিতে চান।