অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের প্রধান সড়ক পার্থ-সিডনি হাইওয়েতে গত রাত্রি এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে, একটি গাড়ি এবং দুই সাইকেলের সংঘর্ষে ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মুহাম্মদ রাহিম হোসেনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে; একই সময়ে তিনজন অন্য গাড়ি চালক ও যাত্রী গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জরুরি সেবা দল দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে, তবে রাহিমের মৃত্যু অপরিবর্তনীয় বলে জানানো হয়েছে। এই দুর্ঘটনা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র শোকের সৃষ্টি করেছে।
রাহিম হোসেন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি এক বছর আগে বৃত্তি পেয়ে দেশে ফিরে না গিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ছিলেন। পার্থ শহরের সড়ক নেটওয়ার্কের উচ্চ গতি ও জটিল ট্রাফিক নিয়মের কারণে পূর্বে অনুরূপ দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে; বিশেষ করে রাতের সময় অপ্রত্যাশিত গতি পরিবর্তন ও অপ্রতুল আলোকসজ্জা সমস্যার মুখে গাড়ি চালকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকে। রাহিমের দুর্ঘটনা এই প্রেক্ষাপটে ঘটায়, যা স্থানীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর বাংলাদেশি দূতাবাসের প্রেসিডেন্ট তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাহিমের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, কনসুলার সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন। রাহিমের পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে শোকের বার্তা প্রকাশ পায়, যেখানে রাহিমের শিক্ষার প্রতি উত্সাহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ প্রধান ঘটনাস্থলে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে, গাড়ি চালকের লাইসেন্স ও গতি সীমা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাবে বলে জানান। এই ঘটনার ফলে পার্থে বসবাসকারী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ে এবং শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার সময় সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
অস্ট্রেলিয়ার সড়ক নিরাপত্তা বিভাগ ঘটনাটিকে গুরুতর দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে, তৎকালিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী গতি সীমা পুনর্বিবেচনা, রাত্রিকালীন আলোকসজ্জা উন্নয়ন এবং সাইকেল চালকদের জন্য বিশেষ লেন তৈরি করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশি দূতাবাস কনসুলার সেবা বাড়িয়ে, আহতদের চিকিৎসা ব্যয় ও রাহিমের পরিবারের জন্য সমর্থন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে, উভয় দেশের শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য সড়ক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্থানীয় নীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।