cox24newsbd.com
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবে দুটি বিমানবন্দরে হামলা, নারীসহ ৩ বিদেশি নিহত, আহত ৩৬
আন্তজাতিক

সৌদি আরবে দুটি বিমানবন্দরে হামলা, নারীসহ ৩ বিদেশি নিহত, আহত ৩৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা শহরের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একসঙ্গে দু’টি সশস্ত্র হামলা সংঘটিত
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা শহরের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একসঙ্গে দু’টি সশস্ত্র হামলা সংঘটিত হয়েছে। রিয়াদে ঘটিত হামলায় এক নারীসহ মোট তিনজন বিদেশি নাগরিক নিহত হন, আর আবহা বিমানবন্দরে অতিরিক্ত দুইজন বিদেশি নিহত হন। মোট ৩৬ জন আহতের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা ক্যামেরা ও সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা স্বল্প সময়ের মধ্যে বিস্ফোরক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা দ্রুত পৌঁছায়, তবে আহতদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা যায়।

এই হামলাগুলি সৌদি আরবের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে তেল শিল্প, ধর্মীয় তীর্থস্থান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে সমান ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণ ঘটেছে, যা অঞ্চলের জটিল ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক বিরোধকে প্রতিফলিত করে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করা হয় আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ এবং বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ানোর জন্য। সৌদি সরকারের পূর্ববর্তী নিরাপত্তা নীতি, যা বিমানবন্দর ও পাবলিক স্থানগুলোতে কঠোর চেকপয়েন্ট ও নজরদারি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তা এই ঘটনার পর পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

সৌদি গৃহস্থালি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া তীব্র শোক ও উদ্বেগের মিশ্রণ। রিয়াদের গৃহমন্ত্রীর অফিস দ্রুত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে যে, "এই নির্মম আক্রমণ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সরাসরি হুমকি" এবং শিকারের পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসগুলোও তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় জনগণও বিমানবন্দরের আশেপাশে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি করে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছে, যা সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।

হামলার পরপরই সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দেন এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে, সকল আন্তর্জাতিক ও গৃহস্থালি বিমানবন্দরে প্রবেশদ্বার পুনরায় সুরক্ষিত করা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ধাতব সনাক্তকরণ যন্ত্রের সংখ্যা বাড়ানো এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দলকে দ্রুত মোতায়েনের জন্য নতুন প্রোটোকল প্রণয়ন করা হবে। সরকার এছাড়াও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আর্থিক সমর্থন কেটে ফেলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ রোধে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অগ্রাধিকার হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com