মঙ্গলবার রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকায় ‘আর্শীবাদ’ নামের একটি সোনার দোকানে তিনজন ব্যক্তি সিআইডির পরিচয় দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দোকানদারের কাছে জোর করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তারা বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের অপকর্ম চালাতেন। এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, মঙ্গলবার বিকেলে তিনজন আসামি সিআইডির পরিচয় দান করে ‘আর্শীবাদ’ সোনার দোকানে জোর করে প্রবেশ করেন। তারা দোকানদারকে হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। দোকানদারের প্রতিরোধ ও চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনার সত্যতা জানতে পারে এবং পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করে। এ ঘটনায় দোকানদারের কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে তারা মানসিকভাবে ভয়ভীতিতে ভোগেন।
গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সিআইডি বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে চাঁদা আদায়ের অপকর্ম চালাতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এই ধরনের অপকর্মের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীরা পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থাকে প্রশংসা করেছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপকর্ম রোধে সাহস পাবেন বলে মনে করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর পর তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অপকর্মের মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে চাঁদা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের এই পদক্ষেপে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে।