cox24newsbd.com
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
আংটি পরানোর প্রথা কবে শুরু হলো
অনন্য

আংটি পরানোর প্রথা কবে শুরু হলো

বিবাহের রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আংটি পরানোর প্রথা বাংলাদেশের প্রতিটি গৃহে গভীরভাবে প্রোথিত। এই প্রথা কেবল দম্পতির পারস্পরিক বন্ধনকে দ
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

বিবাহের রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আংটি পরানোর প্রথা বাংলাদেশের প্রতিটি গৃহে গভীরভাবে প্রোথিত। এই প্রথা কেবল দম্পতির পারস্পরিক বন্ধনকে দৃঢ় করে না, বরং সামাজিক স্বীকৃতি ও পারিবারিক গৌরবের প্রতীক হিসেবেও কাজ করে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও ঐতিহাসিক নথিপত্রে দেখা যায়, আংটি পরানোর রীতি আজকের মতোই প্রাচীন যুগে থেকেই বিদ্যমান, যা সমসাময়িক সমাজে তার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব বজায় রেখেছে।

আংটি পরানোর ঐতিহাসিক পটভূমি অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে ‘বিবাহবর্ণ’ নামে পরিচিত রীতিতে আংটি ব্যবহার করা হতো। প্রাচীন সিলহি ও পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনে বর্ণিত আছে, বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মে দম্পতির আঙুলে রূপার আংটি পরা ছিল শুভতার চিহ্ন। বাংলার গ্রামাঞ্চলে এই রীতি প্রাচীন ‘বৌদ্ধ বর্ণ’ থেকে ধার করা হয় বলে ধারণা করা হয়। মধ্যযুগে মুঘল শাসনকালে রূপার আংটির নকশা ও ব্যবহার আরও সমৃদ্ধ হয়, যা পরবর্তীতে মুসলিম সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং আজকের বাংলা বিয়ের রীতিতে রূপান্তরিত হয়।

বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের মতে, আংটি পরানোর প্রথা কেবল রূপক অর্থেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দম্পতির আইনি স্বীকৃতি, পারিবারিক সম্পদের ভাগাভাগি এবং সামাজিক দায়িত্বের সূচনা নির্দেশ করে। ধর্মীয় পণ্ডিতরা উল্লেখ করেন, আংটি পরার মাধ্যমে দম্পতি একে অপরের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয় এবং সমাজে তাদের অবস্থান স্পষ্ট হয়। গৃহিণী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই রীতির প্রতি গর্বের অনুভূতি দেখা যায়, যা সামাজিক সংহতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভিত্তি গড়ে তোলে।

আজকের দিনে সরকার ও সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলি আংটি পরানোর ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জাতীয় সংস্কৃতি অধিদপ্তর ঐতিহ্যবাহী রীতির নথিভুক্তি ও গবেষণার জন্য বিশেষ প্রকল্প চালু করেছে, যেখানে আংটির নকশা, উপাদান ও প্রথাগত ব্যবহার সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ঐতিহাসিক রীতির সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে নতুন প্রজন্ম এই মূল্যবান ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে বুঝে ও পালন করতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেলে আংটি পরানোর প্রথা সমৃদ্ধ ঐতিহ্য হিসেবে জাতীয় গর্বের অংশ হয়ে থাকবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com