cox24newsbd.com
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সব প্রিয় শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ কেউ থেকে যায় মনের গহিনে
অনন্য

সব প্রিয় শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ কেউ থেকে যায় মনের গহিনে

আজমীরা খানম, দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে গোপালগঞ্জের একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মুহূর্তে থেমে গেছেন। তিনি তার ক
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

আজমীরা খানম, দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে গোপালগঞ্জের একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মুহূর্তে থেমে গেছেন। তিনি তার ক্লাসের স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটানা স্মরণে রেখেছেন সাবিকুন নাহার অহনা নামের এক শিক্ষার্থীকে, যাকে তিনি হৃদয়ের গভীর কোণে বিশেষ স্থান দান করেছেন। এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানটি স্থানীয় মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হওয়ায়, বহু পুরনো শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীর মধ্যে তীব্র সাড়া ফেলেছে, যা শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্কের তাৎক্ষণিক গুরুত্বকে পুনরায় উদ্ভাসিত করেছে।

শিক্ষক আজমীরার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে, যখন তিনি প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জের গ্রাম্য বিদ্যালয়ে যোগ দেন। তৎকাল থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিকাশে বিশেষ মনোযোগ দেন, এবং নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক স্মৃতিচারণা সেশন আয়োজন করেন। সাবিকুন নাহার অহনা, ২০১২ সালে তার ক্লাসে ভর্তি হন, তখনই তার বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা শিক্ষককে মুগ্ধ করে। অহনা উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, এবং তার সাফল্য শিক্ষকের গর্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পটভূমি শিক্ষকের স্মৃতিচারণার মূল ভিত্তি, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করেন।

স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে আজমীরা খানম স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “সাবিকুন নাহার অহনা শুধু আমার ক্লাসের গর্ব নয়, তিনি আমাদের পুরো বিদ্যালয়ের গর্ব। তার সাফল্য আমাদের সকলের জন্য প্রেরণার উৎস।” অহনার পরিবারও উপস্থিত ছিলেন এবং তারা শিক্ষকের প্রশংসা স্বীকার করে, “শিক্ষকের দিকনির্দেশনা ছাড়া আজমীরার মতো কেউ না থাকলে আমাদের সন্তান এত দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত না।” অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও এই অনুষ্ঠানে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, যা সমাজে শিক্ষকের ভূমিকা ও প্রভাবকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।

এই স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ এখন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। তারা অহনা ও অন্যান্য সফল শিক্ষার্থীর নামানুসারে এক স্কলারশিপ ফান্ড গঠন করবে, যা ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পথে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। তদুপরি, বিদ্যালয় প্রতি বছর একটি “শিক্ষক-শিক্ষার্থী বন্ধন দিবস” আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে শিক্ষকের অবদানকে যথাযথ সম্মান দেওয়া যায় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা যায়। এসব পদক্ষেপ শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com