cox24newsbd.com
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
যারা মুক্তিযোদ্ধাকে কাঠগড়ায় ওঠায়, তাদের কাছে কোনো ইনসাফ নাই: জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার
জামায়াত

যারা মুক্তিযোদ্ধাকে কাঠগড়ায় ওঠায়, তাদের কাছে কোনো ইনসাফ নাই: জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার

ঢাকা শহরের রায়হান রোডে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে জামায়াত‑ই‑ইসলামি নেতা গোলাম পরওয়ার গতকাল সন্ধ্যায় ‘যারা মুক্তিযোদ্ধাকে কাঠগড়ায় ওঠায়, তাদের কাছে কোনো ইনসাফ নাই’ বলে
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

ঢাকা শহরের রায়হান রোডে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে জামায়াত‑ই‑ইসলামি নেতা গোলাম পরওয়ার গতকাল সন্ধ্যায় ‘যারা মুক্তিযোদ্ধাকে কাঠগড়ায় ওঠায়, তাদের কাছে কোনো ইনসাফ নাই’ বলে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের নায়কদের প্রতি অবহেলা ও অবিচারের নিন্দা জানিয়ে, সরকারকে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান। এই বক্তব্যটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র আলোচনার সূত্রপাত করে, বিশেষত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও রাগের সঞ্চার ঘটায়। সমাবেশে উপস্থিত শতাধিক সমর্থক ও সাংবাদিকরা এই মন্তব্যকে ন্যায়বিচারের দাবি হিসেবে গ্রহণ করে, যা পরবর্তী দিনগুলোতে বিভিন্ন স্তরে প্রতিক্রিয়া উসকে দেয়।

জামায়াত‑ই‑ইসলামি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বার্থের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর দলটি বহুবার মুক্তিযোদ্ধা ও বীরদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১২ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা কাঠগড়া’ ঘটনার পর থেকে দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি মামলা দায়ের হয়েছে, তবে অধিকাংশ মামলায় যথাযথ শাস্তি না পেয়ে দলটি সমালোচনার শিকার হয়েছে। এই পটভূমিতে গোলাম পরওয়ারের বর্তমান মন্তব্যকে এক ধরনের স্বীকারোক্তি ও পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে, যদিও তা এখনও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

গোলাম পরওয়ারের মন্তব্যের পরপরই আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতা শাব্বির রশিদ বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আমাদের জাতির গৌরব, তাদের প্রতি কোনো অবমাননা সহ্য করা যাবে না’; আর বিএনপি নেতা খালেদা জিয়া যুক্তি দেন, ‘সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত রাজনৈতিক কথোপকথনই অর্থহীন’। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো সামাজিক মাধ্যমে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে, কিছু পরিবার আইনগত পদক্ষেপের হুমকি দেয়। সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই মন্তব্যকে ‘অসামাজিক’ ও ‘জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি আঘাত’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা দেশের সামাজিক সংহতি ও ঐক্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন। সরকার ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংরক্ষণ আইন সংশোধনের প্রস্তাব পেশ করেছে, যাতে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদান করা যায় এবং অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত হয়। পাশাপাশি, আইন-আদালতকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জামায়াত‑ই‑ইসলামি নেতাদেরও পার্টি অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অভ্যন্তরীণ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিতর্ক এড়াতে জাতীয় ঐক্য ও ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করার জন্য বহুমুখী নীতি ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা সরকার প্রকাশ করেছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com