cox24newsbd.com
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা তিন মাসের মধ্যে উৎখাত হবে: চিফ হুইপ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়

কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা তিন মাসের মধ্যে উৎখাত হবে: চিফ হুইপ

সংসদে জরুরি প্রস্তাব উত্থাপন করে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন সংসদের চিফ হুইপ। তিনি জানান, সরকা
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

সংসদে জরুরি প্রস্তাব উত্থাপন করে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন সংসদের চিফ হুইপ। তিনি জানান, সরকারের উদ্যোগে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক কিশোর গ্যাংগুলোর নেতৃত্ব ও তাদের অপরাধমূলক তৎপরতা সম্পূর্ণভাবে উৎখাত করা হবে। এই ঘোষণাটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জনজীবনের জন্য অত্যন্ত তাৎক্ষণিক গুরুত্ব বহন করে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই গোষ্ঠীগুলো শহর ও গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে ভয়-ভীতি ছড়িয়ে রাখছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।

কিশোর গ্যাংয়ের উদ্ভব ও বিস্তারের পেছনে রয়েছে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা। বেকারত্ব, পরিবারের অবহেলা এবং শিক্ষার অভাবের ফলে অসংখ্য কিশোর-কিশোরী এই অপরাধমূলক গোষ্ঠীতে যুক্ত হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এই গ্যাংগুলো শুধুমাত্র ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তারা চাঁদাবাজি, হত্যা, মাদক ব্যবসা এবং নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হলেও, গ্যাংগুলোর নেতাদের দ্রুত পালিয়ে যাওয়া এবং স্থানীয় কিছু ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির সহযোগিতার কারণে স্থায়ীভাবে তাদের দমন করা সম্ভব হয়নি, যা এই সমস্যার গভীরত্ব তুলে ধরে।

সংসদীয় বক্তব্যে চিফ হুইপ দাবি করেছেন যে, এবারের অভিযান হবে সবচেয়ে কঠোর ও সুপরিকল্পিত। তিনি উল্লেখ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্যাংগুলোর নেতাদের পরিচয় শনাক্ত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, দেশের বিভিন্ন অংশের সাধারণ নাগরিকরা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাংয়ের কারণে তারা নিরাপদে ঘোরাফেরা করতে পারছেন না, বিশেষ করে রাতের বেলায়। শিক্ষাবিদ ও সামাজিক কর্মীরাও এই পদক্ষেপকে প্রশংসা করে বলেছেন, তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র আইনি ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়, বরং এই কিশোরদের পুনর্বাসন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, নাহলে ভবিষ্যতে নতুন গ্যাং গঠিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানান দেওয়া হয়েছে যে, আগামী তিন মাসের সময়সীমার মধ্যে দেশের ৬৪ জেলার সবগুলোতে বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান চালানো হবে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কারণ মাদকই কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান অর্থসংস্থান। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে সরকারের উদ্দেশ্য হলো এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে কিশোররা অপরাধের দিকে ঝুঁকে না পড়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, জনগণের সহযোগিতা পেলে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com