cox24newsbd.com
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
বুসানের খালে আটকে পড়া হাঙর দেখতে ছুটে গেলেন ছয় লাখ মানুষ
জাতীয়

বুসানের খালে আটকে পড়া হাঙর দেখতে ছুটে গেলেন ছয় লাখ মানুষ

দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের নর্থ পোর্ট এলাকার একটি খালে আটকে পড়া একটি বিশাল হাঙরকে দেখতে গত কয়েক দিনে প্রায় ছয় লাখ মানুষের ভিড় জমেছে। স্থানীয়রা এই হাঙরটির
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের নর্থ পোর্ট এলাকার একটি খালে আটকে পড়া একটি বিশাল হাঙরকে দেখতে গত কয়েক দিনে প্রায় ছয় লাখ মানুষের ভিড় জমেছে। স্থানীয়রা এই হাঙরটির নাম দিয়েছেন ‘বুকাং-ই’, যা শহরের উত্তর বন্দরের নাম থেকে উদ্ভূত। ১৮ সেপ্টেম্বর শহরের একটি জলাধারের পাশে প্রথমবারের মতো হাঙরটিকে দেখা গেলে থেকেই এলাকাটি জনসমাগমের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সাধারণত নদী বা খালে হাঙর দেখা যায় না বলে মনে করা হলেও, এই অস্বাভাবিক দৃশ্য মানুষের কৌতূহলকে জাগিয়ে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও পর্যটকরা হাঙরটিকে সরাসরি দেখার জন্য খালের পাড়ে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকছেন, যা শহরের দৈনন্দিন জীবনে একটি অনন্য ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পায়।

ঘটনার নেপথ্যে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সমুদ্রের পানির প্রবাহ বা জোয়ার-ভাটার সময় হাঙরটি ভুলবশত খালে প্রবেশ করে এবং পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় বাতাসের অভাবে বা আটকে পড়ে। সাধারণত হাঙররা খোলা সমুদ্র অঞ্চলে বসবাস করে এবং নদী বা খালের মতো স্থির পানিতে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে না। বুসান শহরের জলবায়ু ও পানির গুণগত মানের পরিবর্তনের ফলে সম্ভবত হাঙরটির স্বাভাবিক পথচলা বিপর্যস্ত হয়েছে। এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি প্রাণীবিজ্ঞানের রহস্য নয়, বরং পরিবেশগত পরিবর্তনের একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও গণ্য করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং হাঙরটির স্বাভাবিক পরিবেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেকেই হাঙরটিকে একটি দুর্লভ দৃশ্য হিসেবে দেখছেন এবং ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির জন্য উৎসুক হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে, কিছু পরিবেশবিদ ও প্রাণীসম্পর্কী বিশেষজ্ঞরা জনসমাগমের কারণে হাঙরটির মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জনজীবনে এর প্রভাবও অনুভূত হচ্ছে, যেখানে খালের আশেপাশের দোকানপাট ও খাবারের স্থানগুলোতে ভিড় বেড়ে গেছে। তবে কিছু নাগরিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে হাঙরটি নিরাপদে সমুদ্রে ফিরে যেতে পারে এবং জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো যায়। স্থানীয় প্রশাসন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বর্তমানে হাঙরটিকে নিরাপদে সমুদ্রে ফেরত পাঠানোর জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। প্রাণীসম্পর্কী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে হাঙরটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেটি এখনো সচেতন ও স্বাভাবিক অবস্থায় আছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, স্থানীয় প্রশাসন খালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে এবং জনসাধারণকে হাঙরটির কাছ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া, পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রাণীপ্রেমীদের মধ্যেও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে এবং প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শীঘ্রই হাঙরটি তার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে যাবে এবং এলাকার শান্তি ফিরে আসবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com