cox24newsbd.com
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্টুডিও–স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: গ্রেপ্তার ১৮, পরিকল্পনাকারীরা অধরা
অপরাধ

স্টুডিও–স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: গ্রেপ্তার ১৮, পরিকল্পনাকারীরা অধরা

গত রাত্রি ঢাকা শহরের উত্তরে অবস্থিত স্টুডিও‑স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক অপ্রত্যাশিত সশস্ত্র হামলা সংঘটিত হয়। রাত্রি ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে কয়েকটি গুলিবর্ষণ এবং দহনের মা
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

গত রাত্রি ঢাকা শহরের উত্তরে অবস্থিত স্টুডিও‑স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক অপ্রত্যাশিত সশস্ত্র হামলা সংঘটিত হয়। রাত্রি ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে কয়েকটি গুলিবর্ষণ এবং দহনের মাধ্যমে আক্রমণকারীরা কেন্দ্রের ভেতরে উপস্থিত কর্মী ও রোগীদের ওপর হুমকি সৃষ্টি করে। তৎকালীন উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তবে আক্রমণকারীরা দ্রুতই পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ, ডিএসএস এবং জরুরি সেবা সংস্থার দল মোতায়েন করা হয় এবং ১৮ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা সচেতনতার ওপর নতুন আলো ফেলেছে।

স্টুডিও‑স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পূর্বে কয়েকবার হুমকি পত্র ও ফোন কলের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে। গত বছরই একই কেন্দ্রের এক কর্মীকে হুমকি জানানো হয়, তবে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ায় তা যথাযথভাবে প্রতিহত করা যায়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুরূপ সশস্ত্র আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অপরাধী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের আক্রমণ সাধারণত রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তবে সুনির্দিষ্ট প্রেরণা এখনও স্পষ্ট না হওয়ায় তদন্ত চলমান।

হামলার পর পুলিশ প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত ১৮ জন সন্দেহভাজন মূলত আঞ্চলিক অপরাধী গোষ্ঠীর সদস্য, যারা পূর্বে বিভিন্ন সশস্ত্র অপরাধে জড়িত ছিলেন। কেন্দ্রের প্রধান ডা. রেহানা বেগমের মতে, আক্রমণের সময় কোনো কর্মী বা রোগী আহত হননি, তবে মানসিক আঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা ঘটনাটিকে ‘অসহনীয়’ বলে সমালোচনা করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্বরান্বিত উন্নয়নের দাবি জানায়। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নাগরিকরা নিরাপত্তা সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও, পরিকল্পনাকারীদের ধরা না পড়ার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে।

অধিকর্তা এখন পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অপরাধী গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ কাঠামো উদ্ঘাটনের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিরাপত্তা মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় পুলিশ বিভাগ অতিরিক্ত নজরদারি ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের পরিকল্পনা করেছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধী গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ভাঙার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অনুসন্ধান করা হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com