দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত তথ্য অধিকার আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক বিলম্বের সৃষ্টি হয়েছে। আইন প্রণয়নের দুই বছর পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তথ্য কমিশন গঠন করা হয়নি, যাতে দেশের কোটি কোটি নাগরিকের তথ্য অধিকার সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান নাগরিক সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটি দ্রুত গঠন করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তথ্য অধিকার আইনের কার্যকরী বাস্তবায়ন ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের সরকারি নথি ও তথ্যের প্রতি অধিকার প্রাপ্তির পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সালে পাস হলেও এর কার্যকরী বাস্তবায়নের জন্য তথ্য কমিশন গঠন করা ছিল অত্যন্ত জরুরি। আইনের ধারাবাহিকতায় তথ্য কমিশন গঠন করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য প্রদানে বাধ্যতামূলক করা এবং নাগরিকদের অভিযোগ শুনানির ব্যবস্থা করা উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু দুই বছর পেরিয়েও কমিশন গঠন না হওয়ায় আইনটি মূলত কাগজের ওপরই থেকে গেছে। এই বিলম্বের পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকারের অভাবকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে, নাগরিকরা তাদের প্রাপ্য তথ্য পেতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় কাটিয়ে চলেছেন, যা দেশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মানদণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজ, আইনজীবী ও গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে এই বিলম্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন অধিকার সংগঠন ও নাগরিক গোষ্ঠীরা দাবি জানিয়েছেন যে, তথ্য অধিকার হলো গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং এটি ব্যাহত হওয়া অগ্রহণযোগ্য। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে দ্রুততম সময়ে তথ্য কমিশন গঠন করে আইনটি কার্যকর করা হয়। জনজীবনে এর প্রভাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে, সরকারি নথি ও তথ্যের প্রতি নাগরিকদের অধিকার প্রাপ্তি ব্যাহত হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও, তথ্য অধিকারের অভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো তথ্য কমিশন গঠনের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, যা উদ্বেগের বিষয়। তবে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, তথ্য কমিশন গঠন না হলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। নাগরিক সমাজের চাপে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশন গঠন করতে হবে এবং আইনটি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। এতে করে নাগরিকদের তথ্য অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ না হলে এই বিলম্ব আরও বাড়তে পারে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে।