cox24newsbd.com
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নাটোরে সাত বছরের শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী গ্রেপ্তার
অপরাধ

নাটোরে সাত বছরের শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী গ্রেপ্তার

নাটোরের একটি নির্মম ঘটনায় সাত বছরের এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুলের একাংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে পুলিশের এক কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থ
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

নাটোরের একটি নির্মম ঘটনায় সাত বছরের এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুলের একাংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে পুলিশের এক কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। শিশুটি বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি সমাজের নিরাপত্তা দেয়াল হিসেবে কাজ করা পুলিশ সদস্যের এমন আচরণের জন্য সমাজে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী শিশুটির সাথে ব্যক্তিগত ঝামেলা বা অন্য কোনো কারণে এই নির্মম কাজটি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রাতে এবং শিশুটির চিৎকার শুনে আশেপাশের বাসিন্দারা দৌড়ে গেলে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ দ্রুততম সময়ে অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করে। এই ঘটনার পটভূমি হিসেবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা এলাকায় কিছুদিন আগেই বসবাস শুরু করেছিল এবং তাদের আচরণ নিয়ে আগেও কিছু প্রশ্ন উঠেছিল। তবে শিশুদের প্রতি এমন আক্রমণের কোনো যৌক্তিক কারণ পাওয়া যায়নি, যা এই ঘটনাকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।

ঘটনার পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ও শিশুটির পরিবারের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শিশুটির পিতা জানান, তাঁর সন্তানের জীবন এখন বিপদে এবং চিকিৎসায় অসংখ্য টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে। এলাকার নেতৃবৃন্দ ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে পুলিশের ভেতরের দুর্বলতা ও নৈতিক পতনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তারা দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত এবং শিশুটির চিকিৎসার সব খরচ সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বহন করতে হবে। জনগণের মনে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যে পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা দেয়, তারা নিজেই এমন নির্মম অপরাধে কীভাবে জড়িত হতে পারেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসার জন্য বিশেষ চিকিৎসক দল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তার সুস্থতার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে পুলিশের ভেতরে নৈতিকতা ও প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়াও, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত ও ন্যায়বিচারমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com