cox24newsbd.com
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লবণের মৌসুম শুরুর ঠিক আগে আমদানির অনুমতি, ক্ষুব্ধ চাষিরা
জাতীয়

লবণের মৌসুম শুরুর ঠিক আগে আমদানির অনুমতি, ক্ষুব্ধ চাষিরা

সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে লবণের মৌসুমের শুরুর ঠিক আগে দেশীয় বাজারে লবণ আমদানি করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি কৃষক ও চাষিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রি
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে লবণের মৌসুমের শুরুর ঠিক আগে দেশীয় বাজারে লবণ আমদানি করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি কৃষক ও চাষিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, কারণ লবণ চাষের মৌসুমে বিদেশি পণ্যের প্রবেশে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের বাজারভিত্তি হ্রাসের আশঙ্কা বাড়ছে। সিদ্ধান্তটি প্রকাশের পরই বিভিন্ন কৃষক সমিতি ও চাষি গোষ্ঠী রাস্তায় নেমে প্রতিবাদসূচক র্যালি শুরু করে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সরকারী অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে লবণ আমদানির পরিমাণ ও সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি, ফলে তথ্যের ঘাটতি জনসাধারণের মধ্যে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।

লবণ চাষের ঐতিহ্যবাহী মৌসুমে দেশীয় উৎপাদন সাধারণত স্বল্প সময়ের মধ্যে চাহিদা পূরণ করে। তবে গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টিপাতের অনিয়ম, সেচের অভাব এবং উচ্চ উৎপাদন খরচের ফলে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। পূর্বে সরকার আমদানি সীমিত করে স্থানীয় উৎপাদকদের রক্ষা করার নীতি অনুসরণ করত, তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে লবণের দামের পতন ও দেশীয় মুনাফার হ্রাসের মুখে এই নীতি পরিবর্তনের সংকেত দেখা যায়। এছাড়া, রপ্তানি বাজারে লবণের চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদনকারীরা বিক্রয়মূল্য হ্রাসের ঝুঁকিতে পড়ে, যা আমদানির অনুমতি প্রদানকে ত্বরান্বিত করেছে।

চাষি গোষ্ঠীর প্রধান ওয়াজিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের চাষের পরিশ্রমের ফল স্বল্প মূল্যে বিক্রি করতে হবে না; আমদানি অনুমতি আমাদের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলবে।” কৃষক সমিতির মুখপাত্র রেহানা বেগম যুক্তি দেন, “সরকার যদি সত্যিই কৃষকদের রক্ষা করতে চায়, তবে উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়তা, সেচ সুবিধা ও সস্তা সিডের ব্যবস্থা করা উচিত, আমদানি নয়।” অন্যদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমদানি অনুমতি বাজারে মূল্য স্থিতিশীল করতে এবং ভোক্তাদের স্বল্পমূল্যে লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে।” অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, “যদি আমদানি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষতি বাড়বে, তবে ভোক্তাদের জন্য স্বল্পমূল্য সুবিধা হতে পারে।”

সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে কৃষি মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে লবণ চাষের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়েছে। এই কমিটি উৎপাদন খরচ কমাতে সেচ প্রকল্প, সিডের মানোন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে। তদুপরি, মন্ত্রণালয় বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে আমদানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নজরদারি করবে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, “আমদানি অনুমতি অস্থায়ী এবং প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী পুনর্বিবেচনা করা হবে।” ভবিষ্যতে লবণ চাষের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে গবেষণা ও প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষিত হয়।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com