শ্রমমন্ত্রী রোহিমুল হক রোববারের একটি সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য একটি নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। এই বোর্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শিল্পে বিদ্যমান মজুরি বৈষম্য দূর করা। বোর্ডটি গঠনের সিদ্ধান্তটি শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার ফল। রোববারের এই ঘোষণা শ্রমিক সমাজে এক নতুন আশার ঢেউ তুলেছে।
পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ, যেখানে লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মজুরি নিয়ে বিরোধ বাড়ছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানায়। শ্রমিকরা কম মজুরি ও অনিয়মিত বেতন দাবী করছেন, আর নিয়োগকর্তারা মুনাফা বজায় রাখার জন্য মজুরি কম রাখার চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে একটি স্বতন্ত্র বোর্ড গঠন করে মজুরি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, 'বোর্ডটি শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে এবং এটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত মজুরি নির্ধারণ করবে।' পোশাকশিল্পের শ্রমিক সংগঠনের প্রধান মেহেদী সুলতানও উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, 'এটি আমাদের জন্য একটি বড় বিজয়।' অন্যদিকে, কিছু বড় কারখানার মালিকরা সতর্কতা প্রকাশ করেন যে, মজুরি বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে। জনসাধারণের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সরকার ইতিমধ্যে বোর্ড গঠনের জন্য একটি টাস্ক ফোর্স নিয়োগ করেছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। বোর্ডের সদস্য নির্বাচন ও মজুরি মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য একটি সময়সূচি প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বোর্ডটি প্রতি বছর মজুরি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনে সমন্বয় করবে। এই পদক্ষেপটি শ্রমিকদের জীবিকা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।